Home » Blog & latest news » গিটার নেভার লাইজ অন স্টেজ ২০১৭: শিক্ষানবিশ গিটারিস্টদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

গিটার নেভার লাইজ অন স্টেজ ২০১৭: শিক্ষানবিশ গিটারিস্টদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

No automatic alt text available.‘গিটার নেভার লাইজ’ হল দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রতিষ্ঠিত গিটার স্কুল, যার প্রতিষ্ঠাতা হলেন দেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট সাজ্জাদ আরেফিন। পরিচিতদের কাছে তিনি ‘এংরিমেশিন’ নামেও পরিচিত। দীর্ঘদিন বাজিয়েছেন ওয়ারফেইজ, মেটাল মেইজ এর মত জনপ্রিয় ব্যান্ডে। এবিসি রেডিওতে তার গিটার নিয়ে প্রোগ্রামও ছিল সমান জনপ্রিয়। তার বর্তমান সিম্ফনিক মেটাল ব্যান্ড ডি-ইলুমিনেসন অনেকদিন থেকে ইন্যাক্টিভ হলেও, সেই ২০০২ থেকে ‘গিটার নেভার লাইজ’ পুরোদমে গিটার শিখিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৫০০+ শিক্ষার্থী এখানে গিটার শিক্ষা নিয়েছে। বর্তমানে চার ব্রাঞ্চ মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জনের মত। শিক্ষার মান ঠিক রাখতে, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সঠিক ভাবে যত্ন নেয়ার জন্য আসন সংখ্যা সীমিত রাখা হয়। এই শিক্ষার্থীদের মেধা সবার সামনে তুলে ধরতে, তাদের একটা প্লাটফর্ম দেয়ার জন্য গত বছর থেকে শুরু হয় বাৎসরিক স্টেজ পারফরমেন্স, যেখানে ‘গিটার নেভার লাইজ’ এর বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানটির সহযোগী ছিল- এবিসি রেডিও, ব্লাক্সটার এমপ্লিফিকেসন, ওয়ার্ল্ড মিউজিক, পিনহোল ফটোগ্রাফি আর্ট এন্ড ক্রাফট, এবং গিটার স্ট্রিংস রেস্টুরেন্ট।

এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর, গত শুক্রবার, নভেম্বরের ৩ তারিখে বনানীর ‘গিটার স্ট্রিংস’ রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয়েছিল ‘গিটার নেভার লাইজ অন স্টেজ ২০১৭’। শিক্ষার্থীরা এখানে বিভিন্ন কাভার সংস, নিজেদের অরিজিনাল কম্পোজিশন এবং নিজেদের ব্যান্ড সহও পরিবেশনা করে। পুরো ভেনু জুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। মজার ব্যাপার হল, তারা আবার বিচারকের ভুমিকাও পালন করেন। স্কুলের দেয়া মারকিং পেপারে তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার উপর মারকিং করেছেন। বিশেষ বিচারকের ভুমিকায় ছিলেন, ফিডব্যাক ব্যান্ডের লাবু রহমান, ভাইকিংস ব্যান্ডের সেতু চৌধুরী এবং মঞ্জুরুল হাসান আসাদ, আর্টসেলের সাইফ আল নাজি সেজান, শিরোনামহীন ব্যান্ডের দিয়াত খান (যিনি নিজেও এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র), দৃক ব্যান্ডের  রাহি প্রমুখ।

সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা একে একে পরিবেশনা করে “বিধাতারই রঙে আঁকা (ভাইব)”, “অনন্যা (জেমস)”, “দখিনা হাওয়া (সোলস)”, “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি (লালনগীতি), “এখন অনেক রাত (এলআরবি)” ইত্যাদি। এছাড়াও “নাথিং এলস ম্যাটারস (মেটালিকা)”, “উইন্ড অফ চেঞ্জ (স্করপিয়ন্স)” এর ইন্সট্রুমেটাল পরিবেশনা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দুটো ব্যান্ড “সিনোনিম” এবং “দ্যা আর্চ” প্লাগড পরিবেশনা করে। শিরোনামহীন ব্যান্ডের দিয়াত খান তার একটি নতুন সোলো ইন্সট্রুমেন্টাল ট্র্যাক বাজিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। সাজ্জাদ আরেফিন এবং রাহী পরিবেশনা করেন “অপারেশন এংরিমেশিন” থেকে “রক্তবাজি” ট্র্যাকটি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে লাবু রহমানও কিছুক্ষণ জ্যাম করেন। তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে তিনি গিটার বাজাচ্ছেন। তাদের সময়ে গিটার শেখানোর তেমন কেউ ছিলনা। বই পড়ে তাকে গিটার শিখতে হয়েছিল। এখনকার শিক্ষার্থীদের সামনে শেখার অনেক সুযোগ। নতুন গিটারিস্টদের পরিবেশনা তাঁর খুবই ভাল লেগেছে।

ভাইকিংস ব্যান্ডের সেতু  পুরনো স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্কুল থেকে সাজ্জাদ আরেফিনের সাথে তাঁর পরিচয়। তারা যখন গিটার শেখা শুরু করেন তখন টিউন করতে পারতেন না। মতিঝিল থেকে মোহাম্মদপুর গিয়ে এক বন্ধুর খালুর কাছে গিটার টিউন করে আনতেন। তখন যদি ‘গিটার নেভার লাইজ’ এর মত স্কুল থাকত তাহলে হয়ত একদিনেই টিউনিং শিখে ফেলতে পারতেন। নতুন গিটারিস্টদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সবাই ভাল করেছে, প্রাইজ না পেলে দুঃখের কিছু নেই। চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আগে ৪০ জন গিটার শিখলে এক মাস পর ৩ জন টিকত, আর এই তিনজন ৪০ বছর গিটার বাজাতো। আর এখন এরকম স্কুল থাকায় ৪০ জন শিখলে এক মাস পর হয়ত ৩৯ জনই টিকে কিন্তু গিটার বাজায় হয়ত ১-২ বছর।

গান অ্যাপের পক্ষ থেকে আর্টসেলের সেজান বলেন, নতুন মিউজিসিয়ানদের প্রতিভা তুলে ধরতে ‘গান অ্যাপ’ সবসময়ই সাথে থাকবে। শিরোনামহীনের দিয়াত জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গিটার প্রতিযোগিতায় পুরস্কার না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে যাননি, পরবর্তীতে ঐ প্রতিযোগিতার বিচারক নির্বাচিত হন তিনি। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে গিটার প্র্যাকটিস করতে পরামর্শ দেন তিনি।

এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল- ব্ল্যাক্সটার এমপ্লিফিকেসন ও ওয়ার্ল্ড মিউজিক এর পক্ষ থেকে সেরা পারফর্মারের জন্য একটি ব্ল্যাক্সটার আইডি কোর ১০ অ্যাম্প। আব্দুল্লাহ আল আদনান এবং শারিফ রায়হান তাদের ট্র্যাক “গ্লুমি স্কাই” দিয়ে যৌথ ভাবে অ্যাম্পটি জিতে নেন। দর্শক-বিচারকদের মারকিং এর ভিত্তিতে তাদের নির্বাচিত করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সেতু চৌধুরী এবং সাজ্জাদ আরেফিন।

সাজ্জাদ আরেফিন জানান, এ বছর থেকে বছরে দুবার করে এরকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। যারা বিজয়ী হতে পারেনি তারা যেন হাল ছেড়ে না দিয়ে আরো চেষ্টা করে।

চমৎকার এই অনুষ্ঠানটির পেছনে নিরলস কাজ করেছেন- আরিফ হাসান, রুহুল আমিন রনি, আদিত্য ভৌমিক, আকিল হাসান, সাকিব হোসেন (ফটোগ্রাফার)।

সকলকে ডিনার পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়।


 

Similar Posts:

    None Found

Facebook Comments

About Kousik Zaman

Check Also

Jackson JS-32 Dinky Review by Sazzad Arefeen(Video)

This is a great guitar for beginners with a low budget, looks good and plays …

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of